আজকের বল পয়েন্ট কলমটিকে কিন্তু দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয়েছে! কেমন ছিলো সেই পথ? সে প্রশ্ন কি মাথায় এসেছে কখনো!
কলম ছাড়া কি একদিনও আমাদের চলে। এখন হয়ত মোবাইল, ল্যাপ্টপ কিংবা কিংবা কম্পিউটারে কলম ছাড়া অনেক কিছু লিখে রাখা যায়। কিন্তু পড়ালেখার ক্ষেত্রে কলমের কোনো বিকল্প নেই। প্রথম কলম আবিষ্কারের পেটেন্ট নেন রোমানিয়ার পেত্রাশ পোনারু। সেটা ১৮২৭ সালের কথা। এসময় পোনারুকে প্রচুর নোট নিতে হতো। তাই সহজে এবং দ্রুত কোনো কিছু লেখার তাড়না থেকেই পোনারু আবিষ্কার করেন ফাউন্টেন পেন।
আর আজকে আমরা যে বলপেন ব্যবহার করি তার আবিষ্কারের গল্পটাও বেশ চমকপ্রদ। জন লাউড নামের একজন মার্কিনি তার চামড়ার ব্যবসার জন্য চামড়ার ওপর লেখার বলপেন আবিষ্কার করেন। কিন্তু এটা দিয়ে চামড়ায় লেখা গেলেও কাগজের ওপর লেখা যেত না। এর প্রায় ৫০ বছর পর হাঙ্গেরির একজন সাংবাদিক তরল কালির পরিবর্তে কলমে ছাপাখানার শুকনো কালি ভরে দেন। তারপর কলমের নিবের মাথায় বসিয়ে দিলেন ছোট্ট একটি ঘুরন্ত বল। যাতে কালির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এভাবেই বিশ্ব পেয়ে গেল সহজে লেখার জন্য আধুনিক বলপয়েন্ট পেন।
শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কলম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ কলমকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার কসম করেছেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।’ (সুরা আলাক, আয়াত : ৪)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘নুন, শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের, যা তারা লিপিবদ্ধ করে।
প্রথম কলমের ব্যবহারঃ ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক বলেন, আদম সন্তানদের মধ্যে সর্বপ্রথম আল্লাহর নবী ইদরিস (আ.) কলম দ্বারা লেখেন। বেশির ভাগ ইতিহাসবিদ মনে করেন, মহানবী (সা.) হাদিস শরিফে সর্বপ্রথম লেখার দিকে যে অনির্দিষ্ট নবীর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি ইদরিস (আ.)। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি একজন নবী ছিলেন, যিনি লিখন পদ্ধতির সূচনা করেন। যে তাঁর মতো লিখতে চায় সে যেন তা করে।
’ ধারণা করা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান, ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতি এবং লোহার অস্ত্র ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
প্রথম কলমটি কিন্তু এতোটা স্মার্ট দেখতে ছিলোনা। ধাপে ধাপে বল পয়েন্ট কলম গুলো পেয়েছে নান্দনিকতা।
<!--/data/user/0/com.samsung.android.app.notes/files/clipdata/clipdata_231215_115534_675.sdoc-->