1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : test test : test test
শিরোনাম :
ইস্টার্ন প্লাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন, উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগ    মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তাপ ।    খাবার, আড্ডা আর উদযাপন — সব এক ছাদে, উত্তরায় খুললো ওয়াটার পার্ক    ৪৯তম বিসিএসের গেজেট: যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ শিবিরের    আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনায় সমকালের জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব    ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: দেলাওয়ারকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের মতবিনিময়    বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের ইন্তেকাল    অভিযোগের পাহাড়, তবুও বেপরোয়া কাজল রেখা    বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজের বদলিতে রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় স্বস্তি   

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বর্তমানে দুর্নীতি, অপশাসন ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত শাসনের চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’–এর পর স্বৈরশাসনের অবসানের মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হলেও, বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার বিপরীত। ব্যাংকের পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেট নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ নামে একটি অস্বীকৃত ও অকার্যকর সংগঠনের ব্যানারে মো. জাহিদ হোসেন, ডিজিএম কে কেন্দ্র করে পুরাতন সিন্ডিকেটটি পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। এই ফোরামের নামে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অপব্যবহার করে ব্যাংকের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, টেন্ডারসহ সব কার্যক্রমকে দুর্নীতির চক্রে পরিণত করা হয়েছে।

বদলির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এমন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে বদলি বাণিজ্য: টাকা দিলে বদলি নিশ্চিত।  আর এর প্রধান ভূমিকা পালন করছেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মো. জাহিদ হোসেন। তার সঙ্গে রয়েছেন এবিএম মুনিবুর রহমান পাভেল, মো. রকিবুল হাসান, খোকন মিয়া, নুরে আলম শাওন, রিয়াজ মাহমুদ, তাসলিমা আক্তার লিনা, মো. আলমগীর হোসেনসহ একাধিক কর্মকর্তা।বদলী বানিজ্য সিন্ডিকেট  ( অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মো: মিরাজ হোসেন, অননোমোদিত সিবিএ, সাধারণ সম্পাদক (ক্যাশিয়ার ও সিন্ডিকেট প্রধানের আস্থাভাজন), ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ সিবিএ, অনির্বাচিত সভাপতি  (প্রধান তত্তাবধানকারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী) । এই সিন্ডিকেট সদস্যরা বদলির জন্য নিচ্ছেন বড় অঙ্কের টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের অভ্যন্তরে বদলির জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা,এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলির জন্য ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করা হচ্ছে।অথচ ব্যাংকের বদলি নীতিমালা ২০১৮-এর ১৮ ধারায় তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা নিষিদ্ধ হলেও, এই সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় বহু কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন।

টেন্ডার বাণিজ্য: মানহীন পণ্যে ভরে যাচ্ছে ব্যাংক। নিম্নমানের পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রতি মাসে গোপনে ‘কমিশন’ যাচ্ছে সিন্ডিকেট প্রধানদের কাছে। এতে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছেই, পাশাপাশি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
পদোন্নতিতে অর্থের প্রভাব, মেধার মূল্য নেই: ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধার পরিবর্তে ঘুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক কর্মকর্তা জানান, “পদোন্নতির জন্য এখন মেধা নয়, টাকাই আসল মাপকাঠি।” প্রমাণ হিসেবে বলা হয়, ২০২৪ সালে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মুখ্য কর্মকর্তার পদে ৪৬৮২ থেকে ৫০২৭ পর্যন্ত তালিকায় থাকা ২৫৬ জনকে বাদ দিয়ে ৫০২৮ থেকে ৫০৭৯ পর্যন্ত তালিকায় থাকা ৩৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি। এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন ডিএমডি-২ খালেদুজ্জামান, কে.এম. হাবিব উন নবী, সৈয়দ লিয়াকত হোসেনসহ আরও অনেকে।

অসহায় কর্মচারীরা সন্ত্রাসের ভয়ে চুপ: চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ: ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এই সিন্ডিকেট অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও বহিরাগতদের ব্যবহার করে ক্যাডার বাহিনী গঠন করেছে। যারা সময়-অসময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হুমকি, গালাগাল ও এমনকি মারধর করতেও পিছপা হচ্ছে না। ফলে সাধারণ কর্মচারীরা আতঙ্কিত, অনেকেই চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

ভুক্তভোগীরা এই দুর্নীতির অবসানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা জানান, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তাদের ভাষ্য, “বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে বাঁচাতে হলে জাহিদ হোসেন গংয়ের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাই।”


This News Visited : 1050 Times





Logo


সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবু হানিফ,
প্রকাশকঃ রাবেয়া খাতুন
নির্বাহী সম্পাদক ডক্টর মোঃ মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মিজানুর রহমান (নজরুল)
কর্পোরেট অফিসঃ ৫১,৫১/এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (লিফটের-৬)পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০।
যোগাযোগঃ ০১৯১১১০৭০২৬

© Copyright, Voice of Dhaka
Developed BY Tiger Infotech