চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম মোড়ের অন্যতম ২ নম্বর গেট। চৌরাস্তার মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। নিরাপদ পারাপারের জন্য মোড়টিতে দুটি পদচারী-সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলেন তৎকালীন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এক বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত কাজই শুরু হয়নি। এতে সড়ক পারাপারে পথচারীদের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
২ নম্বর গেটসহ নগরের ৩১টি ব্যস্ততম মোড় ও এলাকায় ৩৮টি পদচারী-সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের পৌনে তিন বছর পার হলেও ২৭টির কাজই শুরু হয়নি। ১১টির কাজ শুরু হলেও কোনোটিরই কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে চারটির কাজ। সড়কে অব্যবস্থাপনার কারণে পথচারীদের রাস্তা পারাপার ও চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগর। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম নগরের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নগরে তিন বছরে (২০২০-২৩) সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৩ জন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ ছিলেন পথচারী। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) সহযোগিতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম নগর পুলিশ ও ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস নগরের নিরাপদ সড়ক নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩৮টি পদচারী-সেতু নির্মাণ করার কথা ছিল। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে পদচারী-সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৫৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। তবে গত ৫ জুন মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত সড়কে ১১টি পদচারী-সেতু নির্মাণ করা হবে বলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) উল্লেখ করা হয়েছিল। দুটি করে পদচারী-সেতু নির্মাণ হবে টাইগারপাস, জিইসি, ষোলোশহর ২ নম্বর গেট, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, অলংকার ও সিটি গেট মোড়ে। জানা গেছে, ১১টা সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। জিইসি ও ২ নম্বর গেট মোড়ের কাজ বন্ধ। ৭টি মোড়ের বিষয়ে দরপত্র মূল্যায়ন করছে কর্তৃপক্ষ। তিনটি সেতুর নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। আর নিমতলা, টাইগারপাস ও লালখান বাজার মোড়ে পদচারী-সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।