এসএম মোতাহিরুল হক শাহিন, তালা: স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করার অধিকার সবার থাকলেও দীর্ঘ ২৭টি বছর ধরে শিকলবন্ধী এক অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন মালেক সরদার ও আছিয়া বেগমের ছেলে হোসেন আলী সরদার (৩৮)।তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে হোসেন আলী মানসিক প্রতিবন্ধী। যেখানে সমবয়সীদের পড়াশোনা, আড্ডা আর দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা, সেখানে এক শিকলেই আটকে আছে তাঁর পুরো পৃথিবী।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের দিনমজুর মালেক সরদারের ছেলে হোসেন আলী জন্ম থেকেই বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। স্থানীয়রা জানান, শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে কিছুটা মানসিক অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। চিকিৎসাসেবা দেওয়া কিংবা সার্বক্ষণিক সামলে রাখা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই তাঁকে শিকলবন্দী করে রাখার পথ বেছে নেয় পরিবার।
বর্তমানে প্রতিদিন বাড়ির পেছনে রাস্তার ধারে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় হোসেন আলীকে। রোদ-বৃষ্টি কিংবা আবহাওয়া যেমনই থাক, এভাবেই কাটে তাঁর প্রাত্যহিক জীবন। একটি দুটি দিন নয়, দীর্ঘ প্রায় ২৭টি বছর ধরে এই শিকলই তাঁর সঙ্গী।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান হোসেন আলীকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সরকারি সুবিধা এলে তাকে সেটা দেওয়া হবে।হোসেন আলীর পরিবারের অসহায়ত্বের কথা আমরা জানি। বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত মর্মান্তিক। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির এভাবে শিকলবন্দী থাকার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি সরকার প্রদত্ত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত তহবিলের মাধ্যমে তাঁর সুচিকিৎসা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, উপযুক্ত চিকিৎসা,সমাজের বিত্তবান, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো বাক-বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হোসেন আলীর জীবন অন্যরকম হতে পারতো। দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে চিকিৎসার খরচ চালানো যেখানে অসম্ভব, সেখানে সরকারি বা সামাজিক উদ্যোগে কোনো উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় কি না—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর। হতদরিদ্র পরিবারটি এখন কেবলই প্রহর গুনছে—কখন খুলবে দীর্ঘ ২৭ বছরের এই লৌহ শিকল, আর কখন মুক্ত জীবনের ছোঁয়া পাবেন বাক-বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হোসেন আলী।