1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : test test : test test
শিরোনাম :
ইস্টার্ন প্লাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন, উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগ    মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তাপ ।    খাবার, আড্ডা আর উদযাপন — সব এক ছাদে, উত্তরায় খুললো ওয়াটার পার্ক    ৪৯তম বিসিএসের গেজেট: যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ শিবিরের    আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনায় সমকালের জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব    ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: দেলাওয়ারকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের মতবিনিময়    বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের ইন্তেকাল    অভিযোগের পাহাড়, তবুও বেপরোয়া কাজল রেখা    বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজের বদলিতে রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় স্বস্তি   

মাওলানা মোঃ আবু ইউসুফ: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে যেসব অবকাঠামো যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে, ঝালকাঠির গাবখান সেতু তার অন্যতম। গাবখান চ্যানেলের ওপর নির্মিত এই সেতু ২০০২ সালে উদ্বোধন করা হয়। পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত এ স্থাপনাটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং দক্ষিণ বাংলার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

"বাংলার সুয়েজ খাল" নামে পরিচিত গাবখান চ্যানেল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই চ্যানেল দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগকে সহজ ও কার্যকর করেছে। সেই চ্যানেলের ওপর নির্মিত গাবখান সেতু সড়ক ও নৌপথের মধ্যে এক চমৎকার সমন্বয় সৃষ্টি করেছে, যা এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০০২ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে বরিশাল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ এর সুফল ভোগ করছেন। কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ ও অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

গাবখান সেতু শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাহন নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেরও সহায়ক শক্তি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও গতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা গাবখান চ্যানেল এবং তার ওপর সুউচ্চ গাবখান সেতু পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে উন্নয়নের এই ধারাকে টেকসই করতে হলে সেতুর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সেতুকেন্দ্রিক পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আজ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গাবখান সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নযাত্রার বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এটি শুধু কংক্রিট ও ইস্পাতের একটি স্থাপনা নয়; বরং একটি অঞ্চলের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও অগ্রগতির প্রতীক।

বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে গাবখান সেতু একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


This News Visited : 47 Times





Logo


সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবু হানিফ,
প্রকাশকঃ রাবেয়া খাতুন
নির্বাহী সম্পাদক ডক্টর মোঃ মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মিজানুর রহমান (নজরুল)
কর্পোরেট অফিসঃ ৫১,৫১/এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (লিফটের-৬)পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০।
যোগাযোগঃ ০১৯১১১০৭০২৬

© Copyright, Voice of Dhaka
Developed BY Tiger Infotech