আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের তুলকেরামের একটি মসজিদের ভেতর পাঁচ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলের সেনারা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে নিহত সবাই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। মসজিদের ভেতর থাকা ওই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের গোলাগুলি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। ইসরায়েলি হামলায় বুধবার পশ্চিমতীরে অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এরপর বৃহস্পতিবার আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেল। দখলদার ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে যেন ফিলিস্তিনিরা হামলা না চালাতে পারে সেজন্য পশ্চিমতীরে তারা কথিত অভিযান চালাচ্ছে। আইডিএফ জানিয়েছে, মসজিদের ভেতর যে পাঁচজন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজন গত জুনে এক বেসামরিক ইসরায়েলির উপর গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া আরও যে চারজন নিহত হয়েছেন তারা সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন। ফিলিস্তিনি অথরিটির মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ গতকাল বুধবার বলেন, পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি হামলা, একইসঙ্গে গাজার যুদ্ধ ‘ভয়ঙ্কর ও ঝুঁকিপূর্ণ ফলাফল’ বয়ে আনবে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সময়টার মধ্যে ইসরায়েলি সেনারা গাজায় বর্বরতা চালালেও পশ্চিমতীর অনেকটাই শান্ত ছিল। কিন্তু বুধবার থেকে সেখানে বড় হামলা চালানো শুরু করে তারা। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হাজার ৪৭৬ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত ৯৩ হাজার ৬৪৭ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৪১ জন নিহত এবং আরও ১১৩ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।