আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ২২ আরোহী নিয়ে একটি হেলিকপ্টার নিখোঁজ হয়ে গেছে। শনিবার হেলিকপ্টারটির সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেটির সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকারীরা। রাশিয়ার ফেডারেল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এমআই-৮ হেলিকপ্টারটি কামচাটকা অঞ্চলের ভাচকাজেটস আগ্নেয়গিরির কাছ থেকে যাত্রা শুরু করে, কিন্তু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। বিমানটিতে ১৯ জন যাত্রী ও তিনজন ক্রু ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমআই-৮ একটি দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট হেলিকপ্টার যা ১৯৬০-এর দশকে ডিজাইন করা হয়েছিল। এটি রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য অনেক দেশেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া, আগামী মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়া সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় পুতিনকে গ্রেফতার করতে মঙ্গোলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। তবে শঙ্কা উড়িয়ে ক্রেমলিন জানিয়েছে, এসব খবরে তারা উদ্বিগ্ন নয়। দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইউক্রেনের শিশুদের বেআইনিভাবে রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পুতিনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর এই প্রথম আইসিসিভুক্ত কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন পুতিন। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘চিন্তার কিছু নেই। এ নিয়ে মঙ্গোলিয়ায় মিত্রদের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’ পুতিনের সফরের আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে মঙ্গোলীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, ‘সফরের সকল দিক সাবধানে প্রস্তুত করা হয়েছে।’ শুক্রবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আশা করছে- পুতিন যে একজন যুদ্ধাপরাধী, সে বিষয়ে অবগত আছে মঙ্গোলিয়া। দেশটির প্রশাসনের প্রতি রুশ নেতাকে গ্রেফতার ও নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আইসিসির সদর দপ্তরে কৌঁসুলিদের কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি তোলা হয়েছে।অন্যদিকে বিবিসিকে আইসিসির মুখপাত্র ড. ফাদি এল-আবদুল্লাহ বলেছেন, সদস্যদেশ হিসেবে আইসিসির বিধান মেনে চলতে দায়বদ্ধ মঙ্গোলিয়া। তবে এর অর্থ এই নয় যে অভিযুক্তকে বাধ্যতামূলকভাবে গ্রেফতার করতেই হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়াবিরোধী প্রচার-প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯২ জন সাংবাদিক, আইনজীবী এবং ব্যবসায়ীকে রাশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততা তুঙ্গে। রাশিয়ার পরারাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা করার অনুমতি দিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ‘আগুন নিয়ে খেলছে’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ৯২ জনের তালিকায় রয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ জন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে ১৪ জন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে, ৫ জন নিউইয়র্ক টাইমসে এবং ৪ জন ওয়াশিংটন পোস্টে কর্মরত আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা স্বাধীনতার নামে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ায়, তাদের রুশ ভূখণ্ডে প্রবেশের প্রয়োজন নেই। রাশিয়ায় ১৬ মাস কারাবাস শেষে ছাড়া পাওয়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইভান গেরশোভিচ রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই তালিকাকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে গতকাল বলেন, ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন মুক্ত সংবাদিকতাবিরেধী। বছরের পর বছর ধরে তারা সত্য প্রকাশকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাস্যকর তালিকা দেখে আমরা অবাক হইনি।” নিউইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।