আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের হিমালয় পর্বতঘেঁষা রাজ্য হিমাচলের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই মাসে বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বন্যায় গত ২৭ জুন থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া গত দু’মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে রাজ্যের মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি রুপির সমপরিমাণ। রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। কর্মকর্তারা বলেছেন, গত দু’মাসে রাজধানী শিমলা, মান্ডি, কাঙরা, কুল্লু, উনা, সিরমাউর, চাম্বা, লাহাউল এবং স্পিতি জেলার অন্তত ৪০টি সড়ক বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫টি জলবিদ্যুৎ ও ১৯টি পানি সরবরাহ কেন্দ্র। হিমাচল রাজ্য প্রশাসনের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী আরও এক সপ্তাহ রাজধানী শিমলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণ ও ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ বছর দেরিতে বর্ষা এসেছে হিমাচলে, বিদায়ও নিচ্ছে দেরিতে। বিগত বছরগুলোতে আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই বর্ষাকাল বিদায় নেয়। হিমাচল প্রদেশ উত্তর ভারতের একটি রাজ্য এবং যারা হিমালয় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পেতে চান তাদের জন্য একটি সেরা গন্তব্য। যদিও এটি পর্বতশ্রেণীটির সর্বোচ্চ শিখর হিসাবে নিজেকে দাবি করে না, তবে পর্বতারোহণ ছাড়াও বহু ভ্রমণ স্থান রয়েছে এখানে। রাজ্যটির নাম আক্ষরিক অর্থ "তুষার আবাস" । হিমাচল প্রদেশে বারোটি জেলা আছে: বিলাসপুর - চাম্বা - হামিপুর - কাংড়া - কিন্নুর - কুলু - লাহল ও স্পিটি - মান্ডি- সিরামৌর - শিমলা - সোলান - উনা । এই রাজ্যের আয়তন ২১ হাজার ৪৯৫ বর্গমাইল, হিমাচল প্রদেশের উত্তর সীমায় কেন্দ্র শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ রাজ্য; পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমে পাঞ্জাব রাজ্য; দক্ষিণে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্য; দক্ষিণ-পূর্বে উত্তরাখণ্ড রাজ্য ও পূর্বে তিব্বত অবস্থিত। হিমাচল প্রদেশ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ তুষারাবৃত পর্বতসংকুল অঞ্চল। হিমাচল প্রদেশের অপর নাম দেবভূমি (দেবতাদের দেশ)। ঋগ্বৈদিক যুগের পূর্ব থেকেই এই অঞ্চলে ইন্দো-আর্য প্রভাব লক্ষিত হয়। অ্যাংলো-গোর্খা যুদ্ধের পর এই অঞ্চল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের অধীনস্থ হয়। পার্বত্য পাঞ্জাবের সিবা রাজ্য (Siba State of Punjab Hills) ব্যতীত এই অঞ্চলের অপরাপর অংশ প্রথম দিকে পাঞ্জাবের অন্তর্গত হয়। উল্লেখ্য সিবা রাজ্য ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত মহারাজা রঞ্জিত সিংহের শাসনাধীন ছিল।১৯৫০ সালে হিমাচল একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষিত হয়। এরপর ১৯৭০ সালের হিমাচল প্রদেশ রাজ্য আইন অনুযায়ী ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অষ্টাদশ রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ রাজ্যে বহু স্বনামধন্য বোর্ডিং স্কুল অবস্থিত। মাথাপিছু আয়ের হিসেব অনুযায়ী হিমাচল প্রদেশ ভারতের একটি প্রথম সারির রাজ্য। বরফগলা জলে পুষ্ট নদীর প্রাচুর্যের কারণে এই রাজ্য দিল্লি, পাঞ্জাব ও রাজস্থান রাজ্যকে প্রচুর পরিমাণে জলবিদ্যুৎ বিক্রয় করে থাকে। হিমাচল প্রদেশের অর্থনীতি জলবিদ্যুৎ, পর্যটন ও কৃষির উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। নরক আসলে দেখেতে কেমন? পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অবস্থায় কেউ দোজখ দেখার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে তাকে যেতে হবে মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে। সেখানে নাকি আছে নরকের দরজা। ১৯৭১ সাল থেকে তা জ্বলছে। এই নরক দেখতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। শুরুতে খুব বেশি পর্যটকের চাপ না থাকলেও এখন অনেকেই কৌতূলহবশত সেখানে ছুটছেন। জানা যায়, নরকের দরজা খ্যাত অগ্নিগর্ভটি প্রায় ২৩০ ফুট চওড়া এবং ১০০ ফুট গভীর। যেখানে কাউকে ফেলে দিলে বেঁচে ফেরা মুশকিল। তাকে নিমিষেই হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে হবে। ৫৩ বছর ধরে জ্বলতে থাকা নরকের দরজাটি দেখতে গিয়ে যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে এ জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশাল আকারের দানবীয় গর্তটির চারপাশে ২০১৮ সালে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে সোভিয়েত অনুসন্ধানকারীদের একটি দল যখন তুর্কমেনিস্তানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান করেছিল, তখন অনেকটা দুর্ঘটনার মতন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়। যার ফলে তৈরি হয় একটি বিশাল ‘অগ্নিগর্ভ’, যা শেষ পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
কীভাবে এই অগ্নিগর্ভ তৈরি হলো তা নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, সেখানে মিথেন গ্যাসের কারণে অগ্নিগর্ভ হয়ে জ্বলছে। যা শুরুর পর থেকে কখনো নেভেনি। ভয়াবহ দানবীয় এই জ্বলন্ত গর্ত রাতের আধারে যে এক অপূর্ব দৃশ্য। মনে হবে, পৃথিবীতে নেমে এসে জ্বলজ্বল করছে তারা। অনেকে এই অগ্নিগর্ভটিকে ‘কারাকুম মরুভূমির চমক’ বলেও ডাকেন। এখানে আসা ভ্রমণকারীদের রাতে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক কটেজ। গড়ে তোলা হয়েছে বিলাসবহুল ক্যাম্পও। কেউ চাইলে গাড়ি নিয়েও ঘুরে দেখতে পারেন গোটা এলাকা।