আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, হামাসের কাছে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির ৯০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। তবে এই বিষয়গুলো এখনো মাত্র একটি বিষয়ের ওপর আটকে আছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই গাজা-মিসর সীমান্তের ফিলাডেলফিয়া করিডর থেকে সেনা সরাবেন না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেদকে জানিয়েছেন—জিম্মি-বন্দী বিনিময় এবং ফিলাডেলফিয়া করিডরসহ গাজা চুক্তির নব্বই শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত এই চুক্তির ৯০ শতাংশের বিষয়ে সব পক্ষ সম্মত হয়েছে।’ তিনি জানান, এই আলোচনা এখন সমাপ্তির কাছাকাছি। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। যার কারণে আলোচনা স্থগিত হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল বাধা মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মিসর ও গাজার মধ্যকার ফিলাডেলফিয়া করিডর বাফার জোনের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য নেতানিয়াহু নিজেই হিব্রু ও ইংরেজিতে পরপর দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে চুক্তির পক্ষের লোকজন নেতানিয়াহুকে এটি ব্যর্থ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তাঁরা বলছেন, নেতানিয়াহু ফিলাডেলফিয়া করিডর থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হলেই এই চুক্তি হয়ে যাবে। তবে মার্কিন ওই কর্মকর্তা অবশ্য এই চুক্তির বাকি অংশ শেষ না হওয়ার জন্য হামাসের দাবি করা জিম্মি-বন্দী বিনিময়ের সমস্যার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। তিনি হামাসকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, গোষ্ঠীটিই এখন এই চুক্তির বাকি অংশ পূরণে বাধা দিচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সপ্তাহের শেষ দিকে আমরা মিশর ও কাতারের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছি, বিশেষ করে বন্দী বিনিময়ের ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্যাকেজ উপস্থাপন করেছিলাম যার মাধ্যমে সবকিছু ঠিক করা সম্ভব হতো।’ কিন্তু গত সপ্তাহের শেষ দিকে গাজা থেকে আরও একজন জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়টি আলোচনার চরিত্র বদলে দিয়েছিল।