প্রেস বিজ্ঞপ্তি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তাঁর তিন মেয়েকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ২৫ জুন ২০২৬, এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক অসহায় বিধবা মা শাহিনুর বেগম এবং তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার পৈশাচিক ঘটনা আমাদের গভীরভাবে স্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে। এই নৃশংস হামলার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদারও নিহত হয়েছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে সারা দেশে খুন, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাত্র তিন মাসে সারা দেশে রেকর্ড ৯১৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অপরাধীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাও দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে।”
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “একটি স্বাধীন দেশে নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও সরকার বারবার সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আমরা লক্ষ্মীপুরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর প্রকৃত কারণ এবং নেপথ্যে কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সারা দেশে চলমান খুন, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”