1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : test test : test test
শিরোনাম :
ইস্টার্ন প্লাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন, উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগ    মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তাপ ।    খাবার, আড্ডা আর উদযাপন — সব এক ছাদে, উত্তরায় খুললো ওয়াটার পার্ক    ৪৯তম বিসিএসের গেজেট: যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ শিবিরের    আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনায় সমকালের জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব    ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: দেলাওয়ারকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের মতবিনিময়    বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ শরীফ মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের ইন্তেকাল    অভিযোগের পাহাড়, তবুও বেপরোয়া কাজল রেখা    বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজের বদলিতে রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় স্বস্তি   

বিশেষ প্রতিনিধি: মান নির্ধারণী পরীক্ষায় নির্ধারিত মানের তুলনায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ (পারবয়েলড) চাল ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত খাদ্যবাণিজ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ, আমদানি প্রক্রিয়া এবং মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে বহুজাতিক কোম্পানির মজুত থেকে চালটি সংগ্রহ করে বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তর। চালবোঝাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক পরীক্ষায় চালটি ছাড়পত্র পায় এবং এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সরকারি বিতরণ ব্যবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত পরীক্ষাগারে চালের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চালের গুণগত মান চুক্তিতে নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় অনেক নিচে। এরপরই অবশিষ্ট চালের সরবরাহ স্থগিত করা হয় এবং পুরো চালের চালান ভারতকে ফেরত পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
খাদ্য খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় মানহীন খাদ্যশস্য গ্রহণ না করার নীতির অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—যে চাল পরে নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত হলো, সেটি কীভাবে প্রাথমিক পরীক্ষায় অনুমোদন পেল এবং একটি অংশ বাজারে ছেড়ে দেওয়া হলো?
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি চালানের মানগত ত্রুটির বিষয় নয়; বরং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, পরীক্ষাগারভিত্তিক মান যাচাই এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ঘাটতি বা বাজারে মূল্য অস্থিরতার সময় ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চাল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ফলে এমন একটি ঘটনা ভবিষ্যতের সরকারি খাদ্য আমদানি কার্যক্রমে অতিরিক্ত সতর্কতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্য খাতের অংশীজনদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে খাদ্যশস্য বাণিজ্যে আস্থার ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এ ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আন্তর্জাতিক খাদ্যবাণিজ্যে শুধু প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এ ধরনের বিরোধ এড়ানো সম্ভব।
তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, একটি চালান নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা যেন বাংলাদেশ-ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রভাবিত না করে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত সমাধানই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
চাল ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সরকারি খাদ্য আমদানির নীতিমালা ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। তবে ইতোমধ্যেই এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যবাণিজ্যে গুণগত মান, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।


This News Visited : 44 Times





Logo


সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আবু হানিফ,
প্রকাশকঃ রাবেয়া খাতুন
নির্বাহী সম্পাদক ডক্টর মোঃ মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মিজানুর রহমান (নজরুল)
কর্পোরেট অফিসঃ ৫১,৫১/এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (লিফটের-৬)পুরানা পল্টন ঢাকা-১০০০।
যোগাযোগঃ ০১৯১১১০৭০২৬

© Copyright, Voice of Dhaka
Developed BY Tiger Infotech